১৮ বছর পূর্ণ হওয়া প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া আপনার সন্তানের মতো পিতা-মাতা হিসেবে আপনার জন্য একটি মাইলফলক। এসময় তাকে পূর্ণবয়স্ক হিসাবে তার আর্থিক মানসিক পরিবর্তনের জন্য আপনার তাকে সম্পূর্ণ ভাবে সাহায্য করতে হবে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার মানে হচ্ছে আপনার সন্তান ভোটার হবে, গাড়ি চালানোর জন্য লাইসেন্স করতে পারবে, যেকোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করার যোগ্যতা অর্জন করবে এমনকি চাইলে নিজের নামে সম্পদ বানাতে পারবেন।
আপনার সন্তানকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সাথে সাথে তার নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য কি কি পদক্ষেপ আপনি নিতে পারেন? আসুন তার কয়েকটি আমরা দেখি।
ন্যাশনাল আইডি, পাসপোর্ট
আপনার সন্তানের বয়স ১৮ বছর হয়ে গেলে তারা আর্থিক লেনদেন পরিচালনার জন্য আইনত যোগ্য হয়ে উঠবে। পিতা-মাতা হিসাবে, আপনি তার ন্যাশনাল আইডি, পাসপোর্ট এবং ড্রাইভারের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে সহায়তা করতে পারেন। আপনার প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সময়, স্টক বা মিউচুয়াল ফান্ডগুলিতে বিনিয়োগ করার সময় এবং ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করার সময় এই নথিগুলির প্রয়োজন হবে।
ব্যাংকিং
যেসব শিশুদের তাদের বাবা-মায়ের সাথে যৌথ অ্যাকাউন্ট রয়েছে তাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট হিসাবে তাদের অ্যাকাউন্টগুলি আপডেট করতে হবে বা একটি নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। সাধারণত, ব্যাংকগুলি তাদের বয়সের প্রমাণ সরকারি নথিপত্র চাইবে। আপনার সন্তানের নথিপত্রগুলো প্রস্তুত থাকলে সহজেই সে ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করতে পারবে এবং স্বাধীনভাবে আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করতে, চেক প্রদান, এবং মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনা করতে, তহবিল স্থানান্তর করতে এবং তাদের নিজস্ব ডেবিট এবং ক্রেডিট কার্ড পেতে সক্ষম হবে।
বিনিয়োগ:
আপনি যদি আপনার সন্তানের নামে কোন স্টক কিনে থাকেন তবে সময় এসেছে সেগুলো আপনার সন্তানের জন্য নতুন একাউন্ট করে তাকে দিয়ে দেয়ার। আপনার সন্তান হবে কোন মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ করে থাকলে সেই কোম্পানির সাথে কথা বলুন। অনেক সময় কোম্পানি গুলো আপনার সন্তানের নামে পৃথক একাউন্টে পরবর্তী বিনিয়োগ করার সুযোগ দিয়ে থাকে। তবে শুরুতেই সন্তানকে আলাদা করে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করতে দেয়ার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি কোন ফান্ডে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করুন।
আয়কর:
আপনার সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সাথে সাথে সে হয়তো আয় করা শুরু করবে। এই সময় আয়কর স্বচ্ছ ধারণা থাকা ভালো। অল্প বয়স থেকেই সে যদি তারা এর হিসাব ঠিক রেখে ট্যাক্স রিটার্ন দিতে থাকে, তাহলে অ্যাসেট বা সম্পদ সময় বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকবে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়কর নেই। আপনি আপনার সন্তানকে উপহার হিসেবে বছরে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দিলে তাতে তার কোনও আয়কর দিতে হবে না।
বীমা:
১৮ বছর বয়স হলেই আপনার সন্তান নিজের জন্যে জীবনবীমা, স্বাস্থ্যবীমা সহ অন্যান্য বীমা করতে পারবে। যদিও ১৮ বছর বয়সে ঝুঁকি অনেক কম। আপনি হয়ত চিন্তা করতে পারেন যে বীমার কোনও দরকার নেই। তারপরও বিভিন্ন ধরণের বীমার সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেয়া উচিৎ।
যৌবনে রূপান্তরের চ্যালেঞ্জগুলি প্রত্যেক মানুষের জন্যে ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু আপনি আপনার সন্তানকে আর্থিক বিষয়গুলি হাতে ধরে শিখিয়ে দিলে তার জন্যে নিজের আর্থিক দায়িত্ব নেয়া অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।